
কোন বাসনপত্র বা উনুন নয় পাথরের উপর দিব্যি রান্না হচ্ছে সুস্বাদু মাংস! দেখলেই জিভে জল আসবে সকলের, পাথরটিকে গরম করে তার ওপর মাংসের টুকরো গুলি উল্টেপাল্টে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু স্টোন সেকুয়া
দার্জিলিং: কোন কড়াই বা বাসনপত্র নয়, পাথরের উপরেই দিব্যি রান্না হচ্ছে সুস্বাদু মাংস। এই জিনিস দেখলে যেন ফিরে যাবেন পুরনো আদিম যুগে। শৈলশহর দার্জিলিং এর বুকে গেলে এমনই দৃশ্য দেখতে পাবেন। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ে বসে গোর্খা হাট আর সেই হাটে গেলেই দেখতে পাবেন পাথরের উপর রান্না হচ্ছে সুস্বাদু মাংস, শুনতে অনেকটা অবাক লাগলেও খেতে কিন্তু বেশ ভাল।
শৈল শহরে পাথরের উপর তৈরি সুস্বাদু এই মাংসের রেসিপি চুম্বকের মতো টানছে ভোজন রসিকদের। আধুনিক সময়েও এই খাবারের জনপ্রিয়তা বিশাল। মূলত স্বাদের কারণেই খাদ্যরসিকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মাংসের এই বিশেষ পদ। কিন্তু কেন এমন নাম তার? আসলে কোন বাসনপত্র ছাড়াই আগুনের উপর একটা চ্যাপ্টা পাথর বসিয়ে সেটিকে ভালোমতো গরম করে নিয়ে তার ওপর দিব্যি রান্না হচ্ছে মাংস। এ যেন আধুনিক যুগে প্রাচীন যুগের ছোঁয়া।
মাংসের রেসিপিটিকে সাধারণত বলা হয় স্টোন সেকুয়া। পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে তিব্বতিরা মাংস পুড়িয়ে খেতেন না তারা সাধারণত মাংসটিকে ভালোমতো তেল মসলা দিয়ে ম্যারিনেশন করে এভাবেই পাথরের উপর ভালোমতো সেকে নিয়ে তারপর কাবাবের মত ওপরে পেঁয়াজ কুচি থেকে শুরু করে লেবুর রস দিয়ে ভালোমতো মেখে খাওয়া হত। এইভাবে মাংস রান্না হয়তো এর আগে কেউ কখনো দেখেনি এজন্য চোখের সামনে পুরনো দিনের ইতিহাস ভেসে ওঠে যখন ছিলনা কোন বাসনপত্র ছিল না কোন যন্ত্রপাতি ।
এই প্রসঙ্গে দার্জিলিংয়ের এক স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রাই বলেন পাহাড়ের স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পাহাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটক সকলেই এই স্টোন সেকুয়া খেতে খুব পছন্দ করে। এটি পাহাড়ের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার সাধারণত পুরনো দিনে গোর্খারা এভাবেই পাথরের উপর মাংস রান্না করে খেত এবং বর্তমানে পাথরের উপর তৈরি মাংস জিভে জল আনছে সকলের।
বারবিকিউ তো অনেক হলো এবার পাথরের ওপর নতুন স্টাইলে হয়ে যাক সুস্বাদু এই মাংসের রেসিপি। বন্ধুবান্ধব অথবা পরিবারের সাথে পিকনিক হোক বা বাড়ি ঝটপট মাংসটিকে ভালোমতো মেরিনেশন করে একটি পাতলা পাথর ভালো করে গরম করে নিয়ে সে মাংসগুলোকে উল্টে পাল্টে ভালোভাবে সেই পাথরের উপর সেকে নিতে হবে তারপর হালকা লালচে ভাব এবং গরম ধোঁয়া আসলেই রেডি আপনার স্টোন সেকুয়া। তাহলে আর দেরি কিসের ছুটির দিনে বা অবসর সময় সকলের জন্য বানিয়ে ফেলুন আধুনিক যুগে পুরাতনের ছোঁয়ায় সুস্বাদু এই মাংসের রেসিপি।
সুজয় ঘোষ
