‘স্বৈরাচারীর শয্যাসঙ্গী হচ্ছে ভারত’, বেনজির আক্রমণ ট্রাম্প-সহযোগীর, চিনের সঙ্গে সখ্য নিয়ে খোঁচা

‘স্বৈরাচারীর শয্যাসঙ্গী হচ্ছে ভারত’, বেনজির আক্রমণ ট্রাম্প-সহযোগীর, চিনের সঙ্গে সখ্য নিয়ে খোঁচা

নয়াদিল্লি: রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ‘শুল্ক শাস্তি’ চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় করছে আমেরিকার সরকার। সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে চাঁচাছোলা ভাষায় ভারতকে আক্রমণ করলেন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নেভারো। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন তিনি। তাঁর দাবি, রাশিয়া বনাম ইউক্রেনের যুদ্ধ আসলে ‘মোদির যুদ্ধ’। (US Tariff on India)

Bloomberg-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতকে নিশানা করেন পিটার। তিনি জানান, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা এই মুহূর্তে বন্ধ করলে, ভারতের ঘাড় থেকে ২৫ শতাংশ শুল্কের বোঝা নেমে যাবে। তাঁর দাবি, ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর রাস্তা কিছুটা হলেও দিল্লির উপর দিয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, “এটা আসল অর্থে মোদির যুদ্ধ। কারণ শান্তির রাস্তা আংশিক ভাবে হলেও দিল্লির উপর দিয়ে যায়।” (Peter Navarro)

এই মুহূর্তে যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয় ভারত, সঙ্গে সঙ্গে বর্ধিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন পিটার। কিন্তু আমেরিকার কাছে ধাক্কা খেয়ে ভারত যেভাবে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগী হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গেও নতুন করে সম্পর্ক ঝালিয়ে নিচ্ছে, তা ভাল চোখে দেখছেন না তিনি। পিটার বলেন, “রাশিয়ার থেকে তেল না কিনে যুদ্ধে মদত জোগানো বন্ধ করলে, কালই বর্ধিত ২৫ শতাংশ শুল্ক মকুব হয়ে যাবে ভারতের। গণতন্ত্রের পক্ষ নেওয়ার পরিবর্তে ভারত স্বৈরতন্ত্রের শয্যাসঙ্গী হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে চিনের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই চলছে। তিন আকসাই চিন আক্রমণ করেছে, আপনাদের ভূখণ্ড দখল করেছে। তারা কখনওই আপনাদের বন্ধু নয়। আর রাশিয়া? ওদের কথা বরং থাক।”

শুল্ক নিয়ে বোঝাপড়ার কোনও অবকাশ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে, উল্টে ভারতকেই দোষারোপ করেন পিটার। তাঁর বক্তব্য, “আমি সত্যিই বিভ্রান্ত। মোদি ভাল নেতা। ওঁদের গণতন্ত্র যথেষ্ট পরিণত। পরিণত লোকজনের হাতে সরকার। আমায় যেটা ভাবাচ্ছে তা হল, ভারতীয়দের ঔদ্ধত্য। বলছেন, ‘আমরা চড়া শুল্ক নিই না তো! আমাদের সার্বভৌমত্ব রয়েছে। যার থেকে ইচ্ছে তেল কিনতে পারি’। রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কিনে ভারত যুদ্ধে মদত জোগাচ্ছে, যাতে প্রাণ যাচ্ছে ইউক্রেনীয়দের।”

আমেরিকার পণ্যের উপর থেকে ভারত যে চড়া শুল্ক আদায় করে, তাতে তাঁদের অর্থনীতির ক্ষতি হয় বলেও দাবি পিটারের। তিনি বলেন, “ভারতের চড়া শুল্কের জেরে আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে, কর্মসংস্থান কমছে, মানুষের আয় কমছে, পারিশ্রমিক কমছে। তার উপর মোদির যুদ্ধে অর্থ জোগাতে হচ্ছে আমেরিকার করদাতাদের।” এর আগে, গত সপ্তাহেও ভারতকে তীব্র আক্রমণ করেন পিটার। তাঁর দাবি ছিল, আমেরিকার টাকায় ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে। সেই তেল শোধনের পর অন্যত্র বিক্রি করে আবার মুনাফাও লুটছে ভারত। আর রাশিয়াকে ঠেকাতে ইউক্রেনকে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা জোগাতে হচ্ছে আমেরিকা এবং ইউরোপকে।

(Feed Source: abplive.com)