
Debolinaa Nandy: “মেয়ে একদিন ফোন না করলে, মেসেজ না করলে মনে হত, মেয়েকে মেরে ফেলল নাকি! ভয়েস নোট পাঠাতাম, ঠিক আছে কিনা। তারপরেও কোনওদিন মেয়েকে বলিনি আমার কাছে এসে থাক।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের জন্যে শনিবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। বর্তমানে PG হাসপাতালের উডবান ওয়ার্ডে ভর্তি তিনি। হাসপাতাল সূত্রের খবর, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু মানসিকভাবে এখনও ট্রমায় রয়েছেন দেবলীনা। ডাক্তারের পরামর্শ মতো চিকিৎসা চলছে। এবার মুখ খুললেন দেবলীনার মা।
মা রেণুকা নন্দীর অভিযোগ, ‘মেয়ের উপর দেবলীনার স্বামী প্রবাহ শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করতেন। ২০২৪ সালে বিয়ে হলেও এখনও পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ি রেজিস্ট্রি করতে দেয়নি। দেবলীনাকে তাঁর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে বলেছিলেন তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ি। ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন দেবলীনা। শনিবার মেদিনীপুর থেকে শো করে ফেরার পথে তাই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। সঙ্গে ছিলেন দেহরক্ষী মধুমিতা ঘোড়ই। তিনি দেবলীনার প্রাণ বাঁচান। সঙ্গে সঙ্গে হাওড়ার এক হাসপাতালে নিয়ে যান। তারপর দেবলীনাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখনও পর্যন্ত সেখানেই ভর্তি রয়েছেন তিনি। দেবলীনা সুস্থ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে এমনটাই জানালেন দেবলীনার মা।
কী ঘটেছিল দেবলীনার সঙ্গে? দেবলীনার মা বাংলার একটি নামী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই শারীরিক মানসিক নির্যাতনের শিকার মেয়ে। তিনি বলেন, “মেয়ে সবসময়ই চেয়েছে দুই পরিবার নিয়ে থাকতে। বিয়ের আগেই শ্বশুরবাড়িতে ও বলেছিল মা আমার গান-বাজনার, অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। আগামীতেও যুক্ত থাকবেন। তখন সব মেনে নিয়েছিল। বিয়ের পরেই দাবি করে, আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখা যাবে না। আমার স্বামী বহুদিন ধরেই অসুস্থ। তাই আমিই ওঁর পাশে থাকি সবসময়। বিয়ের পরেই বর ও শ্বশুরবাড়ির দাবি, মা সব জায়গায় ওর সঙ্গে যেতে পারবে না। এদিকে দেবলীনা মনে করে, আমি ওর জন্য লাকি। তাই সবজায়গায় আমাকে নিয়ে যায়। ও চাইত, শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও যাক। আমি জানি না, কেন ওরা আমায় পছন্দ করে না!”
চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেবলীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাইভে নিজের মানসিক অবস্থার কথা প্রকাশ করেন। কাজের চাপের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যায় তিনি যে ভেঙে পড়েছেন, সে কথাও জানান। এরপরই সামনে আসে তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবর, যা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
*দেবলীনার মা জানিয়েছেন, “কিছুদিন আগেই দেবলীনার শাশুড়ি মায়ের বাপের বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, তাতে উনি ভেঙে পড়েছিলেন। আমিই বললাম, উনি ঘুরতে ভালোবাসেন। চল, আমরা দার্জিলিং ঘুরে আসি। আমার মেয়েই দুই মাকে নিয়েই গেল, আমরা এনজয় করলাম। ফিরে আবার অশান্তি। ওদের দাবি, ২৮ বছরের মেয়ের সঙ্গে সবসময় মা কেন যাবে? ও একা যাবে, নইলে শ্বশুরবাড়ির কেউ যাবে। আমি চাইছিলাম, ওরাও যাক। একসময় তো আমি আর যেতে পারব না, তখন তো ওদেরই যেতে হবে। কিন্তু ওদের দাবি, আমি নাকি মেয়ের ব্রেন ওয়াশ করি।”
শুধু দেবলীনা নয়, তাঁর মাকেও অকথ্য ভাষায় অপমান করত দেবলীনার শ্বশুরবাড়ির সকলে। তিনি বলেন, “আমি কখনও চাইনি, আমার মেয়ের সংসার ভাঙুক। কোনও মা কেন চাইবে বলুন? সবসময় আমাকে কেন্দ্র করে মেয়েকে উল্টোপাল্টা কথা বলত। ওরা সবসময় বলে, আমি নাকি অশিক্ষিত, দেখতে বাজে, মুর্খ।
তিনি আরও বলেন, “মেয়ে একদিন ফোন না করলে, মেসেজ না করলে মনে হত, মেয়েকে মেরে ফেলল নাকি! ভয়েস নোট পাঠাতাম, ঠিক আছে কিনা। তারপরেও কোনওদিন মেয়েকে বলিনি আমার কাছে এসে থাক।
দেবলীনার মা আরও জানান, “ভাদ্রমাসে ওঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। দু’দিনের জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি চন্দননগর থেকে নিউটাউন গিয়েছিল, মেয়ের কাছে থাকবে বলে। সেই সময় প্রবাহ কাজের সূত্রে বাইরে ছিল। অনুষ্ঠানের জন্য দেবলীনাকে সকাল সকাল বেরোতে হল, ফিরতে রাত হত। ওরা ফোনে বলছিল, ‘সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরিস, এটা সংসার। সাংসারিক মেয়েরা এসব করে?”
তাহলে কী সেপারেশনে ছিলেন দেবলীনা আর প্রবাহ? সংগীতশিল্পীর মা বললেন, “অগাস্টে ওকে প্রথম বাড়ি থেকে বের করে দিল। প্রবাহ বলল, ‘বেরিয়ে যাও’। তারপর শ্বশুর-শাশুড়ি বলল, ‘তোমরা সেপারেশনে থাক’। ওরা বলেছিল, ‘তুমি শুধু শুতে আসবে নাকি? চলবে না। আমার বড় মেয়ে প্রতিবাদ করেভহিল কিন্তু আমরা ওকে নিয়ে চলে আসি। তখনও কোনও অভিযোগ করিনি।”
পঞ্চমীর দিন প্রবাহ ফোন করল মেয়েকে। ও সবসময়ই বলত, প্রবাহ ডাকলে আমি যাবই। আমার মনে সবসময় চিন্তা থাকত, কিন্তু তাও চেয়েছিলাম সব ঠিক হয়ে যাক। গোয়া গিয়েছিল, সেখান থেকেই ফিরে ফের ওকে মারে।
“২০২২ সালে আমার মেয়ে গাড়ি কিনেছিল, সেই সময় আমিও ছিলাম ওর সঙ্গে। সেই গাড়িতে উঠলেই আমাকে বলে, ‘লজ্জা করে না! আমাকে ভিখিরির বাচ্চা, নিকিরির বাচ্চা, কত কী বলেছে!’ আমি মেয়ের গাড়িতে উঠলেই সমস্যা। সব সমস্যা আমাকে নিয়েই।” মায়ের দাবি, এখনও অবধি দেবলীনার কোনও খবর নেয়নি প্রবাহ বা তাঁর পরিবারের কেউ
দেবলীনার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। পিজিতে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এবং অনুরাগীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। তবে এত বড় ঘটনার পরে দেবলীনার স্বামী প্রবাহর তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চন্দননগরের ছেলে, দার্জিলিংয়ের সেন্ট পলস স্কুল থেকে পড়াশোনা। এই মুহূর্তে এয়ার ইন্ডিয়া বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত পাইলট প্রবাহ নন্দী। কেরিয়ারের শুরুতে মুম্বইয়ে কাটিয়েছেন। তারপর কলকাতা। সূত্রের খবর, দেবলীনার সঙ্গে প্রবাহের পরিচয় সোশাল মিডিয়া সূত্রেই। তারপর বন্ধুত্ব, ভাললাগা, প্রেম এবং বিয়ে। ২০২৪ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন।
(Feed Source: news18.com)
