)
এই গুঞ্জনের পর রাকেশ বেদি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিনোদন দুনিয়া নিয়ে মানুষের কৌতূহল এমনি কম নয়। কী হচ্ছে ক্য়ামেরার ওপারে তা জানার ইচ্ছে যেন চিরন্তন। তেমনি বিনোদন দুনিয়ায় মাঝেমধ্যেই এমন কিছু গুজব ভাইরালের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষকে চমকে দেয়।
সম্প্রতি তেমনই এক অদ্ভুত এবং চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। ইন্টারনেটে ভাইরাল যে, জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেতা রাকেশ বেদির (Rakesh Bedi) আইকনিক চরিত্র ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য নাকি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বা পিএমও (PMO – Prime Minister’s Office) থেকেই অফার করা হয়েছিল! এবার এই ভাইরাল খবর নিয়ে নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন স্বনামধন্য অভিনেতা রাকেশ বেদি নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবির পেছনের আসল সত্যিটা স্পষ্ট করেছেন।
কী রটেছিল?
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গত কয়েকদিন ধরে একটি জল্পনা আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, রাকেশ বেদির জনপ্রিয় একটি কমিক চরিত্র ‘ধুরন্ধর’-এর সংলাপ এবং চিত্রনাট্য লেখার পিছনে রাজনৈতিক যোগ ছিল। নেটিজেনদের একাংশ বলতে শুরু করেন, চরিত্রটিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বা কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরার জন্য খোদ পিএমও থেকে স্ক্রিপ্ট বা নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। এই তত্ত্বটি ভাইরাল হতেই বিনোদন এবং রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
এই গুঞ্জনের পর রাকেশ বেদি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পিএমও-র মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত সরকারি দপ্তরের বিনোদন জগতের কোনও কাল্পনিক চরিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখার মতো সময় বা প্রয়োজন– কোনওটাই নেই।
হাস্যরসের ছলে প্রবীণ এই অভিনেতা জানান, অত্যন্ত হাস্যকর এবং সম্পূর্ণ মনগড়া একটি তত্ত্ব। পিএমও-র কাজ দেশ চালানো, কোনও কমেডি শো বা সিনেমার চরিত্রের সংলাপ লেখা নয়। মানুষের কল্পনাশক্তি যে কতদূর যেতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।’
কীভাবে তৈরি হয়েছিল চরিত্রটি?
সাক্ষাৎকারে রাকেশ বেদি তাঁর সেই জনপ্রিয় চরিত্রের পিছনের আসল কৃতিত্ব দিয়েছেন শো-এর লেখক ও পরিচালকদের। তিনি জানান, যেকোনও চরিত্রের মতো ‘ধুরন্ধর’ চরিত্রটিও সম্পূর্ণ লেখকের সৃজনশীল ভাবনা এবং তাঁর নিজস্ব অভিনয়ের মেলবন্ধনে তৈরি। এর সঙ্গে কোনও সরকারি দফতর বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক ছিল না। বছরের পর বছর ধরে দর্শকরা এই চরিত্রটিকে ভালোবেসেছেন কেবল তার নিখাদ বিনোদনের জন্য।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাই না করে সমাজমাধ্যমে শেয়ার করার প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিনেতা। তিনি অনুরাগীদের এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরণের অবাস্তব ও ভিত্তিহীন গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। রাকেশ বেদির এই স্পষ্ট জবাবের পর ‘ধুরন্ধর’ চরিত্র এবং পিএমও-কে জড়িয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিনেতা স্পষ্ট করে দিলেন যে, পর্দায় তাঁর ফুটিয়ে তোলা জাদুকরী অভিনয় কেবলই শিল্পের অঙ্গ, কোনও রাজনৈতিক নির্দেশনা নয়।
(Feed Source: zeenews.com)
